ঈদ এলেই বুকভরা হাহাকার, ছেলের শূন্যতায় কাঁদেন জুলাই শহীদ আলভীর বাবা
ঈদ এখন আর আমাদের ঘরে আনন্দ নিয়ে আসে না। ঈদ মানেই এখন বুকভরা হাহাকার, ছেলের শূন্যতার কষ্ট আর চোখভরা কান্না।” কথাগুলো বলছিলেন জুলাই আন্দোলনের শহীদ শাহরিয়ার হাসান আলভী–এর বাবা মোঃ আবুল হাসান। নিউজ টাইমস কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি তুলে ধরেন সন্ত...
ঈদ এখন আর আমাদের ঘরে আনন্দ নিয়ে আসে না। ঈদ মানেই এখন বুকভরা হাহাকার, ছেলের শূন্যতার কষ্ট আর চোখভরা কান্না।” কথাগুলো বলছিলেন জুলাই আন্দোলনের শহীদ শাহরিয়ার হাসান আলভী-এর বাবা মোঃ আবুল হাসান। নিউজ টাইমস কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি তুলে ধরেন সন্তান হারানোর অসহনীয় বেদনা, ঈদের দিনে ছেলেকে না পাওয়ার শূন্যতা আর একজন পিতার নিঃশব্দ কান্নার গল্প। তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট, রবিবার, রাজধানীর মিরপুর ১০ এলাকায় জুলাই আন্দোলনে শহীদ হন তার সন্তান শাহরিয়ার হাসান আলভী। সেই দিনটির পর থেকে তাদের পরিবারের জীবন যেন থেমে গেছে। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে মোঃ আবুল হাসান বলেন, “আমাদের প্রিয় সন্তান আলভী বেঁচে থাকলে হয়তো আজ ঈদে বাড়িতে ফিরতো। দাদা-দাদীর পাশে বসে হাসিমুখে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতো। পুরো ঘর ভরে উঠতো তার প্রাণখোলা হাসিতে। কিন্তু আজ সেই জায়গাজুড়ে শুধু নীরবতা আর অসীম শূন্যতা।” তিনি আরও বলেন, “প্রতিটি ঈদ এখন আমাদের কাছে এক গভীর বেদনার নাম। আলভীর ব্যবহৃত জিনিসগুলো, তার স্মৃতি, তার হাসি-সবকিছু আজও চোখের সামনে ভেসে ওঠে। একজন পিতার জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কাজ হলো নিজের সন্তানের লাশ কাঁধে বহন করা। এই কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।” ছেলের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি জানান, আলভী শুধু পরিবারের সন্তানই ছিল না, ছিল পরিবারের স্বপ্ন, ভালোবাসা ও ভবিষ্যৎ। তার অনুপস্থিতি প্রতিটি মুহূর্তে পরিবারকে কাঁদায়। সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চান। তিনি বলেন, “আমরা মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করি, আল্লাহ যেন আমাদের প্রিয় শহীদ সন্তান শাহরিয়ার হাসান আলভীকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেন এবং তার কবরকে নূরের বাগান বানিয়ে দেন।” জুলাই আন্দোলনের সেই রক্তাক্ত স্মৃতি আজও বহন করে চলেছে অসংখ্য পরিবার। ঈদের আনন্দের মধ্যেও শহীদ পরিবারের ঘরে ঘরে রয়েছে না বলা বেদনা, প্রিয়জন হারানোর নিঃশব্দ কান্না আর অপূরণীয় শূন্যতা। শহীদ আলভীর পরিবারও তার ব্যতিক্রম নয়। তাদের কাছে ঈদ এখন শুধুই স্মৃতি আর অশ্রুর আরেকটি দিন।
