যুবদলের নতুন কমিটি নিয়ে তোড়জোড়: আলোচনায় সাবেক ছাত্রনেতারা
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার পর রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে ব্যস্ততায় দলের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনে কিছুটা স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। তবে এবার সেই স্থবিরতা কাটাতে নড়েচড়ে বসেছে বিএনপির হাইকমান্ড। সংগঠনগুলোকে গতিশীল করতে ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছে...
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার পর রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে ব্যস্ততায় দলের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনে কিছুটা স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। তবে এবার সেই স্থবিরতা কাটাতে নড়েচড়ে বসেছে বিএনপির হাইকমান্ড। সংগঠনগুলোকে গতিশীল করতে ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এর অংশ হিসেবে বিএনপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের নতুন কমিটি গঠনের গুঞ্জন ও তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এতে পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক চাঙাভাব ও তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এক নেতা এক পদ’ নীতি: মন্ত্রিত্বের কারণে ভাঙছে বর্তমান সমীকরণ দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসনিক দায়িত্ব ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং ‘এক নেতা এক পদ’ নীতি কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদ থেকে মন্ত্রী ও এমপিদের সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাইকমান্ড। ফলে যুবদলের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হওয়ায় এই সংগঠনে নতুন নেতৃত্বের আসার বিষয়টি অনেকটাই নিশ্চিত। ২২ মাসের খরা: পূর্ণাঙ্গ কমিটির অপেক্ষায় তৃণমূলের ক্ষোভ বিগত ২০২৪ সালের ৯ জুলাই আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং নূরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে যুবদলের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে দীর্ঘ ২২ মাস পেরিয়ে গেলেও এই কমিটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। দীর্ঘ সময় ধরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়াকে বর্তমান নেতৃত্বের সাংগঠনিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন পদপ্রত্যাশীরা, যা নিয়ে তৃণমূলের ক্ষোভ ও হতাশা রয়েছে। মুন্নার দাবি: যুবদল সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না জানান, তারা ইতিমধ্যে ১৫১ সদস্যের একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা অনুমোদনের জন্য বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে জমা দিয়েছেন। অনুমোদন মিললে যেকোনো সময় এটি প্রকাশ হতে পারে। তবে দলের নীতিনির্ধারকেরা একই সাথে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের বিষয়েও চিন্তাভাবনা করছেন। তিন ফর্মুলায় আসছে নেতৃত্ব: কার ভাগ্যে ছিঁড়বে শিকে? জানা গেছে, মূলত তিনটি ক্যাটাগরি বিবেচনা করে যুবদলের আগামী নেতৃত্ব নির্বাচন করা হচ্ছে: ক্যাটাগরি ১: বর্তমান কমিটির বিতর্কহীন, নির্যাতিত ও ত্যাগী নেতা। ক্যাটাগরি ২: সাবেক প্রভাবশালী ছাত্রদল নেতা। ক্যাটাগরি ৩: দীর্ঘদিন যুবদলে পদপ্রত্যাশী কিন্তু পরিচয়হীন থাকা দক্ষ সংগঠক। বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী শাসনামলে আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় থাকা, মামলা-হামলার শিকার এবং দলের প্রতি শতভাগ অনুগত নেতাদেরই শীর্ষ পদে মূল্যায়নের কথা ভাবছে হাইকমান্ড। শীর্ষ পদের রেস: স্পটলাইটে যারা যুবদলের শীর্ষ দুই পদে বেশ কয়েকজন সাবেক ছাত্র ও যুবনেতার নাম জোরালোভাবে আলোচনায় আসছে। কেন্দ্রীয় যুবদল: সভাপতি পদের হেভিওয়েট দাবিদার ১. নুরুল ইসলাম নয়ন: বর্তমান সাধারণ সম্পাদক। ২. মামুন হাসান: সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি। ৩. রেজাউল কবীর পল: বর্তমান সিনিয়র সহসভাপতি। ৪. গোলাম মাওলা শাহীন: মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সাবেক আহবায়ক (সহ আরও অনেকে)। কেন্দ্রীয় যুবদল: সাধারণ সম্পাদক পদে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ১. খন্দকার এনামুল হক এনাম: মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহবায়ক। ২. বেল্লাল হোসেন তারেক: যুবদল নির্বাহী কমিটির ১ম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। ৩. আকরান হোসেন মিন্টু: ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক (সহ আরও অনেকে)। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদল: কার হাতে যাচ্ছে নেতৃত্ব? সভাপতি পদের দৌড়ে শীর্ষ পাঁচ: রবিউল ইসলাম নয়ন (বর্তমান সদস্য সচিব) এম, এ গাফফার (সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক) ইকবাল হোসেন বাবলু (যৌথ আহবায়ক) ফয়সাল আহমেদ সজল (জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি) আসিফুর রহমান বিপ্লব (মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক সহ আরও অনেকে)। সাধারণ সম্পাদক পদে মাঠ কাঁপানো মুখ: শাহ মোঃ মাসুম বিল্লাহ (সাবেক ছাত্রনেতা ও বর্তমান মহানগর দক্ষিন যুবদলের যুগ্ন আহবায়ক) মুকিত হোসাইন (বর্তমান কমিটির যুগ্ম আহবায়ক) শেখ খালিদ হোসেন জ্যাকি (ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক) অভি আজাদ চৌধুরী নাহিদ (ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সাবেক সদস্য) রেজাউল ইসলাম প্রিন্স (সদস্য, সহ আরও অনেকে)। প্রোফাইল হাইলাইট: রাজপথের পরীক্ষিত সৈনিকেরা খন্দকার এনামুল হক এনাম (তৃণমূলের আস্থার প্রতীক): নতুন কমিটির গুঞ্জনে প্রতিযোগিতা বাড়লেও দলের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের ওপর তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। মামুন হাসান (শত মামলার ট্র্যাকিং রেকর্ড): বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি। বিগত সময়ে শতাধিক মামলার শিকার হয়েও রাজপথ ছাড়েননি। আকরামুল হাসান মিন্টু (আন্দোলনের অগ্রভাগের সেনানি): ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য। আন্দোলন-সংগ্রামে যার ভূমিকা ছিল অগ্রভাগে। শাহ মোঃ মাসুম বিল্লাহ (সাবেক ছাত্রনেতা ও বর্তমান মহানগর দক্ষিন যুবদলের যুগ্ন আহবায়ক): দীর্ঘ ১৭ বছর স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। এখন নতুন বাংলাদেশের বিনির্মাণের লক্ষ্যে তারেক রহমান যে সিদ্ধান্ত নিবেন । পদপ্রত্যাশীদের দাবি-দায়িত্ব পেলে তারা নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন এবং যুবসমাজকে মাদকমুক্ত, দক্ষ ও কর্মসংমুখী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করবেন। হাইকমান্ডের বার্তা: ‘ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হবে’ এ বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন: "বিএনপি এখন সরকার পরিচালনা করছে, তাই জনগণের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা আরও বেড়েছে। সংগঠনের গতিশীলতার স্বার্থে পরিবর্তন একটি চলমান প্রক্রিয়া। যেসব কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে পুনর্গঠন করা হবে এবং সেখানে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতারাই স্থান পাবেন।"
