দেখাশোনার আশ্বাসে বৃদ্ধের কয়েক লাখ টাকা ও জমি আত্মসাতের অভিযোগ
লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নে দেখাশোনার আশ্বাস দিয়ে এক অসহায় বৃদ্ধের কয়েক লাখ টাকা ও জমি আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে স্বজনদের বিরুদ্ধে। সব হারিয়ে বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ওই বৃদ্ধ। জানা যায়, চরগাজী ইউনিয়নের বাসিন্দা নিঃসন্তান দুলাল উদ্...
লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নে দেখাশোনার আশ্বাস দিয়ে এক অসহায় বৃদ্ধের কয়েক লাখ টাকা ও জমি আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে স্বজনদের বিরুদ্ধে। সব হারিয়ে বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ওই বৃদ্ধ। জানা যায়, চরগাজী ইউনিয়নের বাসিন্দা নিঃসন্তান দুলাল উদ্দিন ও তার স্ত্রীর সম্বল বলতে ছিল বসতভিটা ও সামান্য কিছু কৃষিজমি। স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসা ও নিজেদের ভরণপোষণের কথা চিন্তা করে বসতভিটা বিক্রি করেন তিনি। সেই টাকা ও জমানো অর্থ মিলিয়ে কয়েক লাখ টাকা ব্যাংকে জমা রাখেন। চুক্তি অনুযায়ী, দুলাল উদ্দিনের ভায়রার ছেলে আবদুল সালাম ও তার পরিবার এই বৃদ্ধ দম্পতির দেখাশোনা করবে এবং প্রতি মাসে তাদের ৭ হাজার টাকা করে দেবে। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই দুলাল উদ্দিনের স্ত্রী মারা গেলে পাল্টে যায় আপনজনদের আচরণ। শুরু হয় অমানবিক আচরণ, এমনটাই অভিযোগ ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের। অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা করানো হয় দুলাল উদ্দিনকে। একপর্যায়ে অসুস্থ ও অসহায় এই বৃদ্ধকে ঘর থেকেও বের করে দেওয়া হয়। ফলে মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকুও হারান তিনি। পরে তার দূর সম্পর্কের এক ভাগনে মানবিক কারণে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেন। সেখানে চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর ব্যাংকে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তার অ্যাকাউন্টে জমা রাখা কয়েক লাখ টাকার একটি পয়সাও অবশিষ্ট নেই। অভিযোগ অনুযায়ী, পুরো টাকাই সুকৌশলে আত্মসাৎ করেছেন আবদুল সালাম। এ ঘটনায় নিরুপায় হয়ে স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের দ্বারস্থ হন দুলাল উদ্দিন। পরে একটি সালিশি বৈঠকে প্রতারণার বিষয়টি প্রমাণিত হলে আবদুল সালাম ৩ লাখ টাকা জমা দিয়ে বাকি টাকা ও জমি ফেরত দেওয়ার জন্য সময় চান। কিন্তু পরে টাকা ফেরত দেওয়ার পরিবর্তে উল্টো দুলাল উদ্দিন ও তাকে আশ্রয় দেওয়া স্বজনদের বিরুদ্ধে আদালতে দুটি মামলা দায়ের করেন বলে অভিযোগ। সাবেক চরগাজী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন বাচ্চু বলেন, সালিশি বৈঠকে জমির দলিল ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত আবদুল সালাম কিছু টাকা জমা দিয়েছেন, তবে এখনো সম্পূর্ণ টাকা জমা দেননি। এ বিষয়ে আবদুল সালাম বলেন, “দুলাল উদ্দিনের যে টাকা হিসাব অনুযায়ী পাওনা হয়েছে তার একটি অংশ ইতোমধ্যে ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে জমা দিয়েছি। চেয়ারম্যান লিখিত দিলে বাকি টাকাও তার কাছেই জমা দেব। লিখিত না পেলে আদালতের মাধ্যমে সমাধান হবে।” সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়া দুলাল উদ্দিন এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। জীবনের পড়ন্ত বেলায় আপনজনদের এমন নির্মম প্রতারণার বিচার চেয়ে প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন তিনি ও স্থানীয়রা।
