দুই যুগ আগের সেই বিখ্যাত ও ঐতিহাসিক ক্ষতের পুনরাবৃত্তি হতে দিল না ফ্রান্স। ২০০২ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে তৎকালীন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফরাসিদের ১-০ গোলে হারিয়ে রূপকথা লিখেছিল আফ্রিকার দেশ সেনেগাল। তবে ২০২৬ সালের বিশ্বমঞ্চে এসে আর সেই অঘটনের পুনরাবৃত্তি...
দুই যুগ আগের সেই বিখ্যাত ও ঐতিহাসিক ক্ষতের পুনরাবৃত্তি হতে দিল না ফ্রান্স। ২০০২ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে তৎকালীন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফরাসিদের ১-০ গোলে হারিয়ে রূপকথা লিখেছিল আফ্রিকার দেশ সেনেগাল। তবে ২০২৬ সালের বিশ্বমঞ্চে এসে আর সেই অঘটনের পুনরাবৃত্তি ঘটেনি। কিলিয়ান এমবাপ্পের জাদুকরী ও রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্সে সেনেগালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে দারুণ জয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে দিদিয়ের দেশমের দল। নিউইয়র্কের নিউজার্সিতে অনুষ্ঠিত 'আই' গ্রুপের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে ফ্রান্সের হয়ে জোড়া গোল করে ইতিহাস গড়েছেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। এই জোড়া গোলের ওপর ভর করেই তিনি এখন ফ্রান্সের ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ফরাসিদের হয়ে অন্য গোলটি করেন বিকল্প হিসেবে নামা ব্র্যাডলি বারকোলা। অন্যদিকে সেনেগালের হয়ে একমাত্র সান্ত্বনাসূচক গোলটি শোধ করেন ইব্রাহিম এমবায়ে। প্রথমার্ধে কাগুজে বাঘ ফ্রান্স, সেনেগালের মিসের মহড়া ম্যাচের শুরু থেকেই ডিফেন্ডিং রানার্স-আপ ফ্রান্সের চোখে চোখ রেখে লড়াই শুরু করে সেনেগাল। প্রথম ১০ মিনিট ফরাসিদের মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগকে পাত্তাই দেয়নি পাপে থিয়াওয়ের শিষ্যরা। এমবাপ্পে, ডেম্বেলে, দুয়ে ও অলিসদের নিয়ে গড়া ফ্রান্সের তারকাখচিত আক্রমণভাগ প্রথমার্ধে সেনেগালের জমাট রক্ষণের সামনে একপ্রকার 'কাগুজে বাঘ' হয়েই ছিল। পরিসংখ্যান বলছিল, প্রথমার্ধে ফ্রান্স যেখানে মাত্র ১টি শট নিতে পেরেছিল, সেখানে সেনেগাল শট নেয় ৫টি। উল্টো প্রথমার্ধে দুটি অবিশ্বাস্য সহজ সুযোগ হাতছাড়া করে আফসোস বাড়ায় সেনেগাল। ২৫ মিনিটে প্রতিআক্রমণ থেকে নিকোলাস জ্যাকসনের নেওয়া শট ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মাইনঁকে পরাস্ত করলেও পোস্টে লেগে ফিরে আসে। আর প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে সাদিও মানের নিখুঁত পাস থেকে গোলরক্ষককে একা পেয়েও বল পোস্টের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারেন রাইট উইঙ্গার ইসমাইলা সার। ফলে গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ। দ্বিতীয়াবর্ধে এমবাপ্পে ম্যাজিক ও ইতিহাস বিরতির পর খোলস ছেড়ে বেরিয়ে চেনা আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজায় দিদিয়ের দেশমের দল। একের পর এক আক্রমণে সেনেগালের রক্ষণকে কোণঠাসা করে ফেলে ফরাসিরা। ৫৮ মিনিটে এমবাপ্পের শট সেনেগাল কিপার এদুয়ার্দো মেন্দি ঠেকিয়ে দিলেও, ৬৬ মিনিটে আর শেষ রক্ষা হয়নি। ওলিসের চোখধাঁধানো থ্রু পাস থেকে কোনাকুনি শটে সেনেগালের জাল কাঁপান এমবাপ্পে (১-০)। এই গোলের দুই মিনিট পর সেনেগালের ইসমাইলা সার জালে বল জড়ালেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। এমবাপ্পের নতুন মহাকাব্য: এই ম্যাচের জোড়া গোলের পর বিশ্বকাপে এমবাপ্পের মোট গোল সংখ্যা দাঁড়াল ১৪টি। আর ফ্রান্সের জাতীয় দলের জার্সিতে এটি তাঁর ৫৮তম গোল। এর মাধ্যমে অলিভিয়ের জিরু-কে টপকে ফ্রান্সের ইতিহাসের সর্বকালের একক সর্বোচ্চ গোলদাতা বনে গেলেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চ ম্যাচের ৮০ মিনিটে ওসমানে ডেম্বেলের বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই বাজিমাত করেন তরুণ ফরোয়ার্ড ব্র্যাডলি বারকোলা। মাঠে নামার ঠিক দুই মিনিটের মাথায় (৮২ মিনিট) চমৎকার ফিনিশিংয়ে ব্যবধান ২-০ করেন তিনি। নির্ধারিত সময় শেষে যোগ করা সময়ে (ইনজুরি টাইম) সেনেগালের ইব্রাহিম এমবায়ে একটি গোল পরিশোধ করলে ম্যাচটি জমজমাট রূপ নেয়। তবে সেনেগাল শিবিরে সমতায় ফেরার আশা জাগলেও, শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগ মুহূর্তে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করে ফরাসিদের ৩-১ ব্যবধানের উড়ন্ত জয় নিশ্চিত করেন এমবাপ্পে। এই জয়ে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট নিয়ে বিশ্বজয়ের মিশন শুরু করল দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা।
