রামগতিতে সড়ক দখল করে প্যানেল চেয়ারম্যানের বালুর ব্যবসা
লক্ষ্মীপুর-রামগতি আঞ্চলিক সড়কটি উপজেলার অন্যতম ব্যস্ততম সড়ক। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে হাজারো মানুষ ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। শিক্ষার্থীরা ইজিবাইকে করে ছুটে যায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, কর্মজীবীরা যান নিজ নিজ কর্মস্থলে। তবে সড়কের একাংশ দখল করে দীর্ঘদিন...
লক্ষ্মীপুর-রামগতি আঞ্চলিক সড়কটি উপজেলার অন্যতম ব্যস্ততম সড়ক। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে হাজারো মানুষ ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। শিক্ষার্থীরা ইজিবাইকে করে ছুটে যায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, কর্মজীবীরা যান নিজ নিজ কর্মস্থলে। তবে সড়কের একাংশ দখল করে দীর্ঘদিন ধরে বালুর স্তূপ রেখে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে এক ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারী, যানবাহন চালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযুক্ত মিজানুর রহমান লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার বড়খেরী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বড়খেরী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বনানী সিনেমা হলের সামনে আঞ্চলিক সড়কের বড় একটি অংশ দখল করে বিশাল বালুর স্তূপ রাখা হয়েছে। এতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। স্কুল-কলেজ ও মাদরাসাগামী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ পথচারীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। যানবাহনের চাকার সঙ্গে বাতাসে উড়ে বালু আশপাশের বাড়িঘরেও ছড়িয়ে পড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন মিজানুর রহমান। প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় অনেকেই প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। এলাকাবাসী জানান, সড়কে পড়ে থাকা বালুর কারণে পুরো এলাকায় ধুলোবালির প্রকোপ বেড়েছে। শুকনো মৌসুমে ধুলা উড়ে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে, আর বৃষ্টির সময় কাদার কারণে চলাচল দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বিএনপির দুই নেতা বলেন, সড়কটি এখন মানুষের চলাচলের রাস্তা না হয়ে বালুর গুদামে পরিণত হয়েছে। কেউ প্রতিবাদ করলে নানা ধরনের চাপের মুখে পড়তে হয়। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে মিজান বেআইনিভাবে প্যানেল চেয়ারম্যানের পদও দখল করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা রাকিব হাসান ও আব্দুল মান্নান বলেন, একদিকে তিনি বিএনপি নেতা, অন্যদিকে প্যানেল চেয়ারম্যান। সেই ক্ষমতার দাপটে ব্যস্ততম সড়কে বালুর স্তূপ করে রেখেছেন। সাধারণ মানুষ এতে অতিষ্ঠ।শিক্ষার্থী রোজিনা আক্তার ও আরাফাত রহমান বলেন, “বাতাসে বালু উড়ে চোখে-মুখে লাগে। বাড়িঘর ধুলায় সাদা হয়ে যাচ্ছে। রাস্তার ওপর বালুর স্তূপ থাকায় স্কুলে যাতায়াতে আমাদের খুব কষ্ট হচ্ছে। এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে বড়খেরী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মিজানুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বলেন, “সড়ক দখল করে বালুর স্তূপ রাখা সম্পূর্ণ বেআইনি। সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া রামগতি (লক্ষীপুর) প্রতিনিধি :আবু সালমান
