লাইভ টিভি
চট্টগ্রাম

নতুন উপজেলা ঘোষণার পর লক্ষ্মীপুরে নবদম্পতির ব্যতিক্রমী মানববন্ধন, মন্ত্রিপরিষদসহ ১০ দপ্তরে স্মারকলিপি

নতুন উপজেলা ঘোষণার পর লক্ষ্মীপুরে নবদম্পতির ব্যতিক্রমী মানববন্ধন, মন্ত্রিপরিষদসহ ১০ দপ্তরে স্মারকলিপি
নতুন উপজেলা ঘোষণার পর লক্ষ্মীপুরে নবদম্পতির ব্যতিক্রমী মানববন্ধন, মন্ত্রিপরিষদসহ ১০ দপ্তরে স্মারকলিপি

“জামাই-বউয়ের দাবি একটাই, সদরে আছি, সদরেই থাকতে চাই”— বৈবাহিক জীবনের শুরুতে কোনো পারিবারিক চাওয়া-পাওয়া কিংবা ব্যক্তিগত দাবি নয়, বরং নিজেদের ইউনিয়নকে সদর উপজেলার সাথে টিকিয়ে রাখার আকুতি নিয়ে এমন এক ব্যতিক্রমী স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়েছিলে...

“জামাই-বউয়ের দাবি একটাই, সদরে আছি, সদরেই থাকতে চাই”- বৈবাহিক জীবনের শুরুতে কোনো পারিবারিক চাওয়া-পাওয়া কিংবা ব্যক্তিগত দাবি নয়, বরং নিজেদের ইউনিয়নকে সদর উপজেলার সাথে টিকিয়ে রাখার আকুতি নিয়ে এমন এক ব্যতিক্রমী স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়েছিলেন এক নবদম্পতি। বশিকপুর ইউনিয়নকে নবগঠিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলায় স্থানান্তর না করে সদর উপজেলার সঙ্গেই স্থায়ীভাবে বহাল রাখার দাবিতে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনের সড়কে আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে এই অভিনব প্রতিবাদী দৃশ্য দেখা যায়। বুধবার (৩ জুন) দুপুরে ‘বশিকপুর ইউনিয়নবাসী’ ব্যানারে এই বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মানববন্ধনে বশিকপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শত শত মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। এ সময় আন্দোলনকারীদের হাতে ‘নিজের ঘর ছেড়ে পরের ঘরে যাব না’, ‘সদর উপজেলাতেই থাকব’সহ নানা রকম আবেগঘন ও জোরালো দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার দেখা যায়। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে বশিকপুর ইউনিয়নের সমস্ত প্রশাসনিক, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম সরাসরি সদর উপজেলার সঙ্গে সম্পৃক্ত। ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিকভাবে আমরা সদরের অংশ। এখন হুট করে নতুন গঠিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে আমাদের যুক্ত করা হলে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি ও নানামুখী প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতার মুখে পড়তে হবে।" "আমাদের যাতায়াত ব্যবস্থা থেকে শুরু করে সব নাগরিক সুবিধা সদর কেন্দ্রিক। তাই কোনো অবস্থাতেই আমরা বশিকপুর ইউনিয়নকে সদর উপজেলার আওতা থেকে বের হতে দেব না।" - মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এক স্থানীয় ক্ষুব্ধ বাসিন্দা। ঘণ্টাব্যাপী চলা এই মানববন্ধন শেষে আন্দোলনরত সাধারণ জনগণ লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) এস এম মেহেদী হাসানের কাছে একটি লিখিত স্মারকলিপি প্রদান করেন। বশিকপুর ইউনিয়নবাসীর এই গণদাবি সংবলিত স্মারকলিপিটি ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, পানিসম্পদ মন্ত্রীসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট আরও ১০টি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে অনুলিপি হিসেবে পাঠানো হয়েছে বলে আয়োজকরা নিশ্চিত করেছেন। উল্লেখ্য, গত ১৯ মে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘চন্দ্রগঞ্জ’ নামে একটি নতুন উপজেলা গঠনের ঘোষণা দেয়। এরপর গত ১ জুন সদর ও নবগঠিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়নগুলোর দাপ্তরিক নম্বর পুনর্নির্ধারণ করে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। মন্ত্রিপরিষদের এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই বশিকপুর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়, যার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটে আজকের এই অভিনব প্রতিবাদের মাধ্যমে। বশিকপুর ইউনিয়নকে সদর উপজেলাতেই বহাল রাখতে সরকারের ঊর্ধ্বতন ও নীতি-নির্ধারণী কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আন্দোলনরত সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ।

NewstimesNewstimes
নতুন উপজেলা ঘোষণার পর লক্ষ্মীপুরে নবদম্পতির ব্যতিক্রমী মানববন্ধন, মন্ত্রিপরিষদসহ ১০ দপ্তরে স্মারকলিপি

“জামাই-বউয়ের দাবি একটাই, সদরে আছি, সদরেই থাকতে চাই”— বৈবাহিক জীবনের শুরুতে কোনো পারিবারিক চাওয়া-পাওয়া কিংবা ব্যক্তিগত দাবি নয়, বরং নিজেদের ইউনিয়নকে সদর উপজেলার সাথে টিকিয়ে রাখার আকুতি নিয়ে এমন এক ব্যতিক্রমী স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়েছিলে...

নিউজ টাইমস ডেস্ক

“জামাই-বউয়ের দাবি একটাই, সদরে আছি, সদরেই থাকতে চাই”- বৈবাহিক জীবনের শুরুতে কোনো পারিবারিক চাওয়া-পাওয়া কিংবা ব্যক্তিগত দাবি নয়, বরং নিজেদের ইউনিয়নকে সদর উপজেলার সাথে টিকিয়ে রাখার আকুতি নিয়ে এমন এক ব্যতিক্রমী স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়েছিলেন এক নবদম্পতি। বশিকপুর ইউনিয়নকে নবগঠিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলায় স্থানান্তর না করে সদর উপজেলার সঙ্গেই স্থায়ীভাবে বহাল রাখার দাবিতে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনের সড়কে আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে এই অভিনব প্রতিবাদী দৃশ্য দেখা যায়। বুধবার (৩ জুন) দুপুরে ‘বশিকপুর ইউনিয়নবাসী’ ব্যানারে এই বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মানববন্ধনে বশিকপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শত শত মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। এ সময় আন্দোলনকারীদের হাতে ‘নিজের ঘর ছেড়ে পরের ঘরে যাব না’, ‘সদর উপজেলাতেই থাকব’সহ নানা রকম আবেগঘন ও জোরালো দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার দেখা যায়। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে বশিকপুর ইউনিয়নের সমস্ত প্রশাসনিক, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম সরাসরি সদর উপজেলার সঙ্গে সম্পৃক্ত। ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিকভাবে আমরা সদরের অংশ। এখন হুট করে নতুন গঠিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে আমাদের যুক্ত করা হলে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি ও নানামুখী প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতার মুখে পড়তে হবে।" "আমাদের যাতায়াত ব্যবস্থা থেকে শুরু করে সব নাগরিক সুবিধা সদর কেন্দ্রিক। তাই কোনো অবস্থাতেই আমরা বশিকপুর ইউনিয়নকে সদর উপজেলার আওতা থেকে বের হতে দেব না।" - মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এক স্থানীয় ক্ষুব্ধ বাসিন্দা। ঘণ্টাব্যাপী চলা এই মানববন্ধন শেষে আন্দোলনরত সাধারণ জনগণ লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) এস এম মেহেদী হাসানের কাছে একটি লিখিত স্মারকলিপি প্রদান করেন। বশিকপুর ইউনিয়নবাসীর এই গণদাবি সংবলিত স্মারকলিপিটি ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, পানিসম্পদ মন্ত্রীসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট আরও ১০টি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে অনুলিপি হিসেবে পাঠানো হয়েছে বলে আয়োজকরা নিশ্চিত করেছেন। উল্লেখ্য, গত ১৯ মে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘চন্দ্রগঞ্জ’ নামে একটি নতুন উপজেলা গঠনের ঘোষণা দেয়। এরপর গত ১ জুন সদর ও নবগঠিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়নগুলোর দাপ্তরিক নম্বর পুনর্নির্ধারণ করে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। মন্ত্রিপরিষদের এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই বশিকপুর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়, যার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটে আজকের এই অভিনব প্রতিবাদের মাধ্যমে। বশিকপুর ইউনিয়নকে সদর উপজেলাতেই বহাল রাখতে সরকারের ঊর্ধ্বতন ও নীতি-নির্ধারণী কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আন্দোলনরত সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ।

নিবন্ধের রেফারেন্স লিংক
নিবন্ধের রেফারেন্স লিংক/article/rjh6smqHdpBg